ব্যবসায় সফল হওয়ার উপায়

পৃথিবীতে সফলতার পথ দিন দিন কঠিন হয়ে যাচ্ছে। চাকরি পেলেই কিংবা ব্যবসা খুলে বসলেই যে সফল হয়ে যাবেন এমন চিন্তা করা এখন বোকামি৷ পৃথিবীতে যারা সফল হয়েছে তাদের জীবনী পড়ে দেখতে পারেন৷ তারা কেউই সহজে সফল হয়নি৷ এর জন্য তাদেরকে কিছু নিয়মের মধ্যে দিয়ে যেতে হয়েছে। জন্মের পরেই যারা প্রতিষ্ঠানের মালিক হয়েছে তাদের কয়জনকে মানুষ চিনে বা শ্রদ্ধা করে থাকে৷ বরং নিজ গুণে প্রতিষ্ঠিতরাই পরিচিত। ব্যবসায় সফল হওয়ার উপায় জানতে হলে তাই সফলদের জীবনী পড়তে পারেন।

বর্তমান বিশ্বের সবচেয়ে ধনী ব্যক্তি জেফ বেজোসের সংক্ষিপ্ত জীবনী পড়তে আমাদের এই ব্লগ পড়ে দেখতে পারেন। বর্তমান বিশ্বের অন্যতম পরিচিত মুখ ‘জ্যাক ম্যা’ যে কিনা আলিবাবার প্রতিষ্ঠাতা তিনি চাকরির জন্য বার বার বাদ পড়েছেন৷ তবুও সে একটা সময় নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে পেরেছে৷ এর জন্য তিনি অবশ্যই কিছু নিয়মের মধ্যে দিয়ে চলেছেন। কাজে লেগে ছিলেন, টার্গেট ঠিক রেখেছেন, হতাশ হননি এমন আরো অনেক কিছু। আমরা আজ তেমন কিছু উপায় বা নিয়ম বলে দিবো যা আপনাকে ব্যবসায়ে সফলতার পথে এগিয়ে রাখবে৷

ব্যবসায় সফল হওয়ার উপায়

সঠিক ব্যবসা নির্বাচন করুন

সঠিক নির্বাচন আপনাকে একধাপ এগিয়ে রাখবে। ব্যবসায়ের পরিকল্পনা করার সময় হাজারো চিন্তা সামনে আসবে। হাজারো পণ্যে নিয়ে ব্যবসা করতে ইচ্ছে হবে। কিন্তু শুরুতেই আপনাকে সব একসাথে করলে চলবে না। মেঘনা কিংবা প্রাণ বা বসুন্ধরা যাই বলেন না কেন তারা ব্যবসায়ের প্রসার ঘটিয়েছে পরে। শুরু করেছে একদিক থেকে। তাই আপনাকেও এই বিষয়টি মাথায় রাখতে হবে।

সঠিক ব্যবসায় নির্বাচনে আপনি যে বিষয়গুলো মাথায় রাখবেন তা হলো নিজের সুবিধা, চিন্তা-ভাবনা, আগ্রহসহ নিজের পারিপার্শিক অবস্থা। আগ্রহ নেই কিংবা যে দিকে আপনার সুবিধা নেই সে দিকে না যাওয়াই ভালো। মনে রাখবেন শুরুটা আসল। তাই এখানে কোনো প্রকার হেলামি করা যাবে না।

ব্যবসায়ের ভিশন ঠিক রাখুন

আপনাকে ভিশন ঠিক করতে হবে। দুই চার মাস অনেক টাকা ইনকাম হবে, তারপর বন্ধ হয়ে যাবে এমন পরিকল্পনাতে যাবেন না। এতে করে সফলতা আসবে না। আপনার নির্বাচিত ব্যবসায়ের একটি সঠিক ভিশন ঠিক করুন।

ভিশন কী? ভিশন হলো দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা। আজ থেকে একটা নির্দিষ্ট সময় পরে নিজের ব্যবসাকে আপনি কোথায় দেখতে চান। ২০ বা ৪০ বছর পর এই ব্যবসায় টিকে থাকবে কিনা। থাকলে কীভাবে থাকবে তাঁর একটা রোড ম্যাপ সেট করে রাখতে হবে আগেই। এতে করে দীর্ঘমেয়াদি সফলতা অর্জন করতে পারবেন।

গুগলে সার্চ দিয়ে দেখুন প্রতিটি প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ের একটি ভিশন আছে। তাদের কার্যক্রম খেয়াল করলে দেখতে পারবেন, তাদের প্রতিটি কার্যক্রম সময়ের চাহিদা পূরণ করে ভিশন অর্জনের পথেই থাকে। আপনার কর্মপদ্ধতি যদি তেমন থাকে আপনিও দেখবেন কাজের প্রতি আগ্রহ বাড়বে।

স্বপ্ন যখন দেখবেনই একটু বড় করেই দেখুন না।

ব্যবসায়ে  লক্ষ্য স্থির রাখুন

ব্যবসায়ের লক্ষ্য স্থির রাখতে হবে। এই যে সফলতার জন্য ভিশন ঠিক করলেন এতে স্থির থাকতে হবে। ভিশন অর্জনের পথ পরিবর্তন হতে পারে নানা কারণে। কিন্তু ভিশনে স্থির থাকতে হবে। তাই ভিশন ঠিক করার আগে ভাবতে হবে স্থির থাকতে পারবেন কিনা।

জীবনে চলার পথে অনেক সমস্যাই আমাদের মোকাবেলা করতে হয়। ব্যবসায়ে নামার পর দেখবেন নানা সমস্যা আসবে। সমস্যা দেখে পালিয়ে গেলে হবে না। লক্ষ্যের দিকে খেয়াল রেখে এগিয়ে যেতে হবে। স্বপ্ন পূরণ করতে হবে। দরকার হলে রাস্তা বদল করবেন, লক্ষ্য নয়।

একটা প্রবাদ আছে, ‘রোম একদিনে হয়নি।’ আপনি ব্যবসা শুরু করলেই সফলতা চলে আসবে না। সাময়িক উচ্চ মুনাফা হয়ত হবে৷ তবে তাড়াহুড়ো করা যাবে না। আপনাকে এবং আপনার পণ্যকে জানতে মানুষেরও সময় লাগবে। মনে রাখবেন মার্কেটে কিন্তু আপনি একা নন।

ব্যবসায়ের সফলতায় ঝুঁকি নিন

ঝুঁকি গ্রহনের মনোভাব তৈরি করতে হবে। ব্যবসায়ের প্রতিটি পদক্ষেপে রয়েছে ঝুঁকি। কোন ব্যবসা করবেন সেই থেকে শুরু করে এর প্রতিটি পর্যায়ে আপনাকে ঝুকির মধ্যে দিয়ে যেতে হবে। তাই সামনে এগিয়ে যেতে হলে অবশ্যই ঝুঁকির মধ্যে দিয়েই যেতে হবে।

আর এই ঝুঁকি কাটিয়ে সফল হতে হলে ক্যাকুলেটেড রিস্ক বা হিসেব করে ঝুঁকি নিতে হবে।  প্রতিটি ব্যবসায়িই ঝুঁকি গ্রহণ করে ব্যবসা পরিচালনা করে থেকে। এদের মধ্যে যারা ঝুঁকি হিসেব করে সেই অনুযায়ী  পদক্ষেপ নিতে পারে তারাই সফলতার দেখা পায়। যারা ঝুঁকির ভয়ে মাঠে নামতে ভয় পায় বা মাঠে নেমেও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনায় ব্যর্থ হয় তাদের সফল হওয়ার সুযোগ খুব কম।

যেমন ধরুন আপনার মূলধনের ব্যাপারটা। আপনার ব্যবসায়ের মূলধন কিভাবে সংগ্রহ করবেন সেটা একটা ঝুঁকির বিষয়। ব্যাংক থেকে নিলে সেখানে আপনার কত দিন সময় দিবে বা আত্মীয় স্বজন থেকে নিলে আপনি ব্যাংকের তুলনায় কি কি সুবিধা পাবেন এগুলো যাচাই করে কম ঝুঁকিপূর্ণ উৎস থেকে মূলধন সংগ্রহ করাই সফল ব্যবসায়ীর কাজ।

পোর্টফোলিও করুন

ব্যবসায়ে সফলতা অনেকটা নির্ভর করে সঠিক পোর্টফোলিও করার উপর। পোর্টফোলিও হলো অনেক গুলো অলটারনেটিভ থেকে বেস্ট অপশনটা খুঁজে নেয়া। ব্যবসা করার সময় আপনার প্রতিটি কাজে পোর্টফোলিও করতে হবে।

যেমনঃ আপনার টার্গেট কাস্টমার কারা হবে? সব বয়সের মানুষ নাকি নির্দিষ্ট বয়সের মানুষ, সেটা আপনাকে ঠিক করতে হবে। আপনার মূলধনের উৎস ব্যাংক ঋণ হবে না আত্মীয় স্বজন হবে, সেটা ঠিক করা। এভাবে সব কাজেই আপনাকে বেস্ট অপশন টা নিতে হবে। কম সময়ে, বেস্ট সার্ভিসটাই হলো বেস্ট পোর্টফোলিও।

প্রতিযোগিতাপূর্ণ মানসিক অবস্থা তৈরি করুন

সবকিছুর মতই ব্যবসায়ে রয়েছে প্রতিযোগিতা। প্রতিযোগিতা ছাড়া ব্যবসা করা যায় না। আপনি যে ব্যবসাটি নির্বাচন করেছেন সেটি হয়ত অন্য কেউও করছে বা আপনি যে নতুন বিষয়ে ব্যবসা করছেন তা পরবর্তীতে অন্যরাও শুরু করবে। তাই ব্যবসায়ে সব সময় প্রতিযোগিতার বিষয়টি মাথায় রাখবেন।

ব্যবসায়ে প্রতিযোগিতা অবশ্যই ভালো একটি দিক। এতে করে ব্যবসায়ীরা যেমন সচেতন থাকেন, গ্রাহকও সঠিক পণ্য বা সেবা পেয়ে থাকেন। প্রতিযোগিতা আপনার মস্তিষ্ককে সক্রিয় করে তুলবে। সব সময় অন্যের চেয়ে ভালো করে কীভাবে গ্রাহক বৃদ্ধি করা যায় সে চিন্তা থাকবে। এতে করে কাজ ভালো হবে এবং সফলতা আসবে।

এর জন্য সর্বদা প্রতিযোগীদের উপর নজর রাখতে হবে। তারা কিভাবে কি করছে, কেনো করছে, কখন করছে সেগুলো নিয়ে চিন্তা করতে হবে। তাদের কর্মপরিকল্পনার দিকে সময় খেয়াল রাখবেন। সে অনুযায়ী নিজের পরিকল্পনা নির্ধারণ করবেন। এতে আশা করা যায় আপনি পিছিয়ে পড়বেন না এবং নিজের লক্ষ্য অর্জনে কষ্ট হবে না।

সততা বজায় রাখুন

মনে রাখবেন সততাই সব। আপনি সৎভাবে কাজ করুন, সফলতার জন্য আপনি একধাপ এগিয়ে থাকবেন সবসময়। অনেকেই বুঝতে চাইনা, দ্রুত উপরে উঠার স্বার্থে অসৎ হয়ে যাই, এতে হয়ত কিছুদিন সফলতার মুখ দেখতে পারবে কিন্তু বেশি দূরে যেতে পারবে না, তাই সততার সাথে ব্যবসা করুন।

মান নিশ্চিত করুন

সেবা বা পণ্যই হলো আপনার ব্যবসায়ের মূল অস্ত্র। আপনার ব্যবসায় কেমন চলবে কতদিন চলবে, আপনি এই ব্যবসা দিয়ে কতদূর যেতে পারবেন তাঁর অনেকটাই নির্ভর করে আমি কেমন সেবা বা পণ্য দিয়ে যাচ্ছেন।

দেখুন ভেজাল পণ্য বা অসম্পূর্ণ সেবা দিয়ে আপনি সাময়িক লাভবান হলেও একটা সময় যখন মানুশ বুঝতে পারবে তখন আপনি আর এগোতে পারবেন না। আপনাকে আপনার ব্যবসা বন্ধ করে দিতে হবে। বিপরীতে যদি আপনি সঠিক সেবা ও ভেজালমুক্ত পণ্য সরবরাহ করে থাকেন, আপনার স্থায়ী গ্রাহক তৈরি হবে। এই গ্রাহকেরা অন্যদের সাজেস্ট করবে।

এতে করে আপনার অগ্রগতী বৃদ্ধি পাবে। ব্যবসায়ের সফলতায় স্থায়ী গ্রাহক প্রয়োজনীয়। আপনি অনলাইন শপ গুলোর পেজে ঘুরলে বুঝতে পারবেন সেখানে তাদের অনেক লয়াল, স্থায়ী গ্রাহক আছে।

যেমনঃ রকমারি ডট কম বই ডেলিভারির ক্ষেত্রে অনেক প্রশংসা অর্জন করেছে যে অনেকেই তাদের ভিন্ন অন্য কারো থেকে নিতে চায় না। তাই সেবা বা পণ্যের মান নিশ্চিত করা সফলতার পূর্ব শর্ত।

ধারাবাহিকতা রক্ষা করুন

ব্যবসায়ীকে কাজে সব সময় ধারাবাহিক হতে হবে। সফলতা অর্জনে এর বিকল্প নেই। প্রতিটি কাজে ধারাবাহিকতার পরিচয় দিতে হবে। এতে আপনি সফলতার পথে  একধাপ এগিয়ে থাকবেন আশা করা যায়।

আপনি যদি মূলধন সংগ্রহ করে বসে থাকেন ব্যবসা নির্বাচনের আগেই তাহলে কিন্তু হবে না। এতে সময়মত টাকা ফেরত দিতে না পারলে পরে সঠিক সময়ে কারো সাহায্য পাবেন না। এভাবে সব কাজ একের পর এক করতে হবে। ধারাবাহিকতার কারণে কাজ করতেও সুবিধা হবে।

কাজকে ভালোবাসুন, পরিশ্রমী হোন

নিজের কাজকে ভালোবাসতে হবে। আমরা ভালোবাসার জিনিসের জন্য সর্বোচ্চ ভালোটাই করে থাকি। যদি নিজের ব্যবসায়ীক কাজকে ভালোবাসতে পারি, তাহলে এখানে সর্বোচ্চ ভালোটাই দেয়া হবে। এতে করে সফলতা অর্জন সহজ হবে।

স্টিব জবস একজনকে বলেছিলেন, তুমি সফল হতে চাইলে, তোমার ভালোবাসার কাজ গুলো খুঁজো। ভালোবেসে কাজ করার অনেক সুবিধা রয়েছে। যেমনঃ এতে আপনার বিরক্তি আসবে না, স্বপ্ন দেখা ছাড়বেন না, নতুন আইডিয়া আসবে মাথা।

তাই আমাদের উচিত কাজকে ভালোবাসা এবং যথাসাধ্য পরিশ্রম করা। শুধু ব্যবসায়ীক উদ্দেশ্য নিয়ে কাজে নামলে বাধা বিপত্তিতে ভেঙ্গে পড়বেন। এগোতে পারবেন না। যদি ব্যবসাকে ভালোবাসতে না পারেন, পরিশ্রম না করতে পারেন তাহলে ভালোবাসার কাজ নিয়ে ব্যবসায় করুন। এতে আপনার সফলতা বেশি দূরে থাকবে না।

যোগ্য অংশীদার গ্রহণ করুন

সব সময় একা বিজনেস করা যায় না। অংশীদার নেয়ার অনেক সুবিধা যেমন আছে সুবিধাও আছে। একজন সঠিক অংশীদার যেমন আপনাকে সফলতা এনে দিবে আবার ভন্ড, প্রতারক অংশীদার আপনার জীবনটাই হয়ত শেষ করে দিবে। তাই সঠিক অংশীদার গ্রহণ করুণ।

একজন সঠিক যোগ্য ব্যক্তিকে অংশীদার হিসেবে নিবেন। শুধু মাত্র তাঁর মূলধন দেখে অংশীদার বানাবেন না। আপনার ব্যবসায় সম্পর্কিত তাঁর জ্ঞান, তাঁর দূরদর্শিতা, তাঁর সামাজিক অবস্থান দেখে তাঁকে ব্যবসায়ে নিবেন। এতে করে আপনার  বোঝাও কমবে, ব্যবসায়ের অগ্রগতীও হবে।

আরেকটা ব্যাপার অবশ্যই মাথায় রাখবেন, যদি আপনি দ্রুত যেতে চান তাহলে একা যান আর যদি আপনি দূরে যেতে চান তাহলে সংগে কাওকে নিয়ে যান।

আপডেট থাকুন, পড়াশোনা চালিয়ে যান

সব সময় আপডেট থাকতে হবে। যেকোনো সময় যে কোনো কিছু হতে পারে। বর্তমান সময়টা এমন যে প্রতিদিন সব কিছুতে পরিবর্তন আসতেছে। আজ কেউ মোবাইল কিনলে সামনের মাসেই সে আফসোস করছে।

তাই সেই আফসোস যেন না করতে হয়, তাই নিজেকে ব্যবসায় সম্পর্কিত বিষয় নিয়ে আপডেট থাকতে হবে। মানুষের রুচিতে কেমন পরিবর্তন আসছে, মানুষ বর্তমান সেবা বা পণ্যের বিকল্প চাচ্ছে কিনা এইসব বিষয়ে খেয়াল না রাখলে হুট করে ঘুম থেকে উঠে দেখবেন আপনি বাজার হারিয়েছেন।

যেমনঃ নোকিয়া মোবাইল কোম্পনি । সময়ের সাথে নিজেকে আপডেট করতে না পারায় এক সময়ের সবচেয়ে জনপ্রিয় ফোন এখন বাজারে পাওয়া মুশকিল। তাই সাবধান হতে এবং সফলতার জন্য সব সময় আপডেট থাকতে হবে।

ব্লগ পড়ুন। রেডিটুরিডিং.কম

নেটওয়ার্ক গড়ে তুলুন

আপনি যে ব্যবসাই করেন না কেন একই ধরনের ব্যবসা যারা করে এবং যারা আপনার ব্যবসার সাথে সম্পর্কিত তাদের সাথে যোগাযোগ রাখুন এবং সুসম্পর্ক গড়ে তুলুন। এই নেটওয়ার্ক হবে আপনার ব্যবসায় সফল হওয়ার উপায় এর মধ্যে অন্যতম।

ক্রিয়েটিভিটি বাড়ান নিত্যনূতন উপায় উদ্ভাবন করুন

ব্যবসা মানেই ক্রিয়েটিভিটি, নতুন নতুন জিনিস নিয়ে ভাবুন, উদ্ভাবন করুন। শুধুমাত্র একটি ইউনিক উদ্ভাবন আইডিয়া আপনার ব্যবসার মোড় ঘুড়িয়ে দিতে পারে। মনে রাখবেন যেকোন কাজ আপনি প্রথম শুরু করলে আপনি পাইওনিয়ার। কয়দিন পর অন্যেরা আপনার আইডিয়া কপি করবে, ততদিনে আপনি সফল।

ব্যবসায় ফাস্ট ইন এন্ড ফাস্ট আউট বলে কথা আছে। যেকোন ব্যবসায় য়াপনাকে ফাস্ট ইন করতে হবে, এরপর যখন প্রতিযোগিতা বাড়বে ফাস্ট আউট হয়ে যেতে হবে এবং নতুন কিছু খুজতে হবে, এটাই ব্যবসায় সফল হওয়ার উপায় গুলোর মূল চাবিকাঠি।

একজিনিষ নিয়ে পরে থাকলে আপনি সফল হতে পারবেন না। যুগ দ্রুত বদলে যাচ্ছে।

নিত্যনূতন মার্কেটিং পলিসি তৈরি করুন

এখনকার দিনে ব্যবসা মানেই মার্কেটিং, যার মার্কেটিং কৌশল যত উন্নত সে তত বেশি দ্রুত সফলতা পাবে। তাই আপনি আপনার ব্যবসার মার্কেটিং পলিসি নিয়ে ভাবুন এবং তার সফল প্রয়োগ ঘটান, সফলতা আসবেই।

এক্সিট প্লান নিয়ে আগেই ভাবুন

যে কোন ঝুকি নেবার আগে অবশ্যই প্লান বি চিন্তা করে রাখুন তাছাড়া এক্সিট প্লান আগে থেকেই তৈরি রাখুন। আপনার যেকোন ঝুকি বা প্লান ব্যর্থ হতেই পারে। এতে হতাস হবেন না। আগে থেকে এক্সিট প্লান করা থাকলে সহজেই বের হয়ে আসতে পারবেন।

দেশ ভ্রমন করুন

দেশ বিদেশ ভ্রমন করুন। ভ্রমন আপনাকে একই সাথে যেমন আপনাকে আনন্দ দিবে তেমনি আপনি পাবেন নতুন নতুন আইডিয়া। যা আপনার ব্যবসায় নতুন দিগন্ত  উন্মোচন করবে। তাই সুযোগ পেলেই ভ্রমণে বেড়িয়ে পড়ুন- নতুনকে জানুন, শিখুন।

পরিশেষে বলতে চাই

ব্যবসায়ের সফলতা ভাগ্যের সাথে সাথে আপনার কার্যক্রমের উপরও নির্ভর। যদি ব্যবসা করে সফল হতে চান তাহলে অবশ্যই নিয়মগুলোর মধ্যে দিয়ে যেতে হবে। প্রয়োজনে বড় কোনো উদ্যোক্তার জীবনী পড়ে দেখতে পারেন৷ তারা কেউ এগুলোর বাইরে কাজ করেনি। ‘আসলাম খেললাম জয় করলাম’  এটাকে সফলতা বলে না। সফলতা সেটিই যা আপনাকে দীর্ঘদিন ফল দিবে৷ সুতরাং পছন্দ আপনার৷ আশা করি ব্যবসায় সফল হওয়ার উপায় ব্লগটি আপনার জীবনে কাজে লাগবে। ভালো থাকুন, সুস্থ থাকুন।