অল্প টাকায় কি ব্যবসা করা যায়

0
550
অল্প টাকায় কি ব্যবসা করা যায়

মানুষ যতকিছু করে জীবিকা নির্বাহ করে তার মধ্যে ব্যবসা অন্যতম। ব্যবসা মানে শুধু ক্রয় বিক্রয় নয়৷ অনেক সময় বিভিন্ন পণ্য কিনে একটি পণ্যে রুপান্তর করে বিক্রি করাও ব্যবসা৷ ব্যবসার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি যে জিনিসটি প্রয়োজন তা হলো মূলধন। কিন্তু আমাদের মত উন্নয়নশীল দেশে এই মূলধনই সবচেয়ে বড় সমস্যা। তাই বলে কি কেউ ব্যবসা করছে না? অবশ্যই করছে। অল্প পুঁজি খাটিয়ে মোটামুটি স্বচ্ছলতার সাথে জীবন কাটাচ্ছে অনেকে। তবে মূলধন অল্প হলেও আপনাকে যে কাজটি করতে হবে তা হলো পরিশ্রম। এতে কমতি থাকা যাবে না কিন্তু৷ চলুন আজ আমরা জেনে নেই অল্প টাকায় কি ব্যবসা করা যায় ।

আমাদের মাঝে অনেকেই আছেন যারা বেকার বাসায় বসে থাকেন আর ভাগ্যকে দোষারোপ করেন এই বলে যে তার মাথায় অনেক আইডিয়া কিন্তু টাকার অভাবে কিছু করতে পারছেন না। বিশ্বাস করেন আর নাই করেন অলস আর বোকারাই এমন ভেবে কপালের দোষ দেন। যারা বুদ্ধিমান আর পরিশ্রমী তাদের কেও থামিয়ে রাখতে পারে না।

আসুন দেখে নেই অল্প টাকায় কি ব্যবসা করা যায় ?

পুরোনো বইয়ের ব্যবসা

বই যে শুধু শিক্ষাক্ষেত্রে প্রয়োজন তা কিন্তু নয়; বরং প্রচলিত শিক্ষার বাইরেও কিছু জানার বা আনন্দ পাওয়ার জন্য অনেকেই বই পড়ে৷ আপনি চাইলে খুব অল্প টাকা বিনিয়োগ করে এই ব্যবসাটি করতে পারেন। শুধু আপনাকে পরিশ্রম করতে হবে পুরোনো বইয়ের সোর্স খুঁজে বের করতে৷ এটারও একটি সহজ উপায় হচ্ছে পুরোনো জিনিস ক্রয় বিক্রয় করে এমন দোকান। লোকাল বা প্রচলিত ভাষায় অনেকে একে ‘ভাঙ্গারির দোকান’ বলে থাকে৷ ধরুন আপনি যদি ২৫/৩০ টাকা কেজিতে এক কেজি বই করেন তাহলে সেগুলো আলাদা বিক্রি করে আপনি আয় করতে পারবেন অন্তত ৩০০/৪০০ টাকা। তাছাড়া আমাদের একাডেমিক বা চাকরির পরিক্ষার বইগুলো সাধারণত অনেক বছরেও পরিবর্তন হয় না৷ এই বইগুলো অনেকেই পুরোনো ভার্সন খুঁজে থাকে। তারমানে এখানেও পুরোনো বইয়ের ডিমান্ড রয়েছে বলে বুঝা যায়৷ বইগুলো বিক্রির ক্ষেত্রে আপনি দুটো পথ ব্যবহার করতে পারেন। ছোটখাটো একটি দোকান ভাড়া নিতে পারেন। তাও না পারলে ঘরে রেখেই ফেসবুক আইডি বা পেজের মাধ্যমে সহজেই বিক্রি করতে পারেন৷ আমার পরিচিত বেশ কয়েকজন এই ব্যবসায়ের সাথে জড়িত।

জেনে অবাক হবেন, আজকের পৃথিবীর সেরা ধনী জেফ বেজোস তার প্রথম ব্যবসা শুরু করেছিলেন পুরাতন বই বিক্রি দিয়ে। পুরাতন বই বিক্রি করার জন্যই তিনি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন আমাজন। জেনে নিন জেফ বেজোসের জীবন কাহিনী

ক্যাটারিং

ক্যাটারিং হলো খাদ্য সরবরাহ করা। এটি একটি অন্যতম বেশি লাভের ব্যবসা। বিয়েবাড়ি, পার্টি, ঘরোয়া আড্ডা থেকে অফিসের বার্ষিক সম্মেলন ক্যাটারিংয়ের চাহিদা সর্বত্র। সবগুলো অনুষ্ঠানই কিন্তু মিলন মেলা। খাবার ছাড়া কি আর মিলন মেলা সম্ভব? অল্প টাকায় ব্যবসা শুরু করতে হলে এই ব্যবসার কথা ভেবে দেখতে পারেন। ব্যবসা শুরু করতে প্রথমেই প্রয়োজন একটা নির্ভরযোগ্য টিম। সন্তোষজনক পরিষেবাই এই ব্যবসার মূল, তাই আপনার টিম হতে হবে পরিশ্রমী, হাসিখুশি ও নির্ভরযোগ্য। এছাড়া কিনতে হবে প্রয়োজনীয় বাসনপত্র, গ্যাস উনুন ইত্যাদি।

নআজকাল ইভেন্ট ম্যানেজমেন্টের উপর সাধারণত দায়িত্ব থাকে সম্পূর্ণ অনুষ্ঠানের৷  তাই এক বা একাধিক ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানির সঙ্গে চুক্তি করে ব্যবসা কে বড় করার সুযোগ তো থাকছেই।

ড্রাই ফুড মিক্সার

ড্রাই ফুড মিক্সার হলো শুষ্ক কিছু খাবার যেগুলো একসাথে মিলিয়ে বিক্রি করা যায়। এই মিক্সারে সাধারণত কাজু বাদাম, পেস্তা বাদাম, চিনা বাদাম, কিসমিস, আখরোট, খেজুর সহ আরো কিছু খাবার থাকে।  আজকাল ওজন, ডায়াবেটিস সহ বিভিন্ন সমস্যা থেকে সমাধান হিসেবে অনেকেই ড্রাই ফুড খেয়ে থাকেন৷ কিন্তু আলাদা ভাবে এগুলো ক্রয় করা ব্যয় সাপেক্ষ। তাই এই সুযোগটাই আপনি নিতে পারেন।

এজন্য আপনার খুব বেশি মূলধনের প্রয়োজন হবে না। এই কাজটি করতে আপনি ড্রাই ফুড গুলো কিনে সেগুলো মিক্সার করবেন। তারপর সেগুলো ১০০/২০০ গ্রামের কৌটা বা বয়ামে (প্রচলিত শব্দ) ভরে বিক্রি করতে পারবেন। এরজন্য আপনি এলাকার পরিচিত মুদি দোকান গুলোর সাথে কথা বলতে পারেন বা নিজেই ফেসবুক পেজ খুলে বিক্রি করতে পারেন। অল্প টাকায় কি ব্যবসা করা যায় দেখলেন তো?

সোশ্যাল মিডিয়া ম্যানেজমেন্ট

বর্তমানে সামাজিক মাধ্যমের ব্যবহার বিগত দিনগুলোর চেয়ে অনেক বেশি। তাছাড়া সামাজিক মাধ্যমে পাওয়া মতামত দেখে অনেকেই প্রভাবিত হচ্ছে। তাই প্রতিষ্ঠানগুলোও গ্রাহকদের সাথে যোগাযোগ করতে ও বিজ্ঞাপনের জন্য সামাজিক মাধ্যমকে ব্যবহার করছে। আর এর জন্য দরকার হয় সামাজিক মাধ্যমে মার্কেটিংয়ে দক্ষ লোক। কিন্তু প্রতিষ্ঠানগুলো এর জন্য সরাসরি লোক নিয়োগ না দিয়ে বাইরের কর্মীর ওপর নির্ভর করে থাকে।

তাই আপনি এই ক্ষেত্রে দক্ষ হলে তাদের সাথে যোগাযোগ করে কাজটি পেতে পারেন। তাই সময় নষ্ট না করেই ডিজিটাল মার্কেটিং এর উপর কয়েকটি কোর্স করে ফেলুন। তারপর নিজের পরিচিত ২/৩ জনকে নিয়ে একটি টিম করে সোশ্যাল মাধ্যমগুলো নিজেদের উপস্থিতি জানান দিন। আপনারা একটু খেয়াল করলেই দেখবেন ইলেক্ট্রিক পণ্যের একটা বিশাল মার্কেটিং হচ্ছে ফেসবুকে।

ডিজিটাল মার্কেটিং কিভাবে করবেন জানতে এখানে দেখুন

ইন্টিরিয়র ডেকরেশন

ইন্টেরিয়র ডেকরেশনও বর্তমানে জনপ্রিয়। আগের মত জায়গা কিনে বাড়ি করা এখন চাকরিজীবীদের সামোর্থ্যের বাইরে। তাই ফ্লাট কেনার প্রতি আগ্রহ বৃদ্ধি পাচ্ছে। আর একটি ফ্লাটেই যেহতু অনেকদিন থাকতে হবে তাই সেটার ইন্টেরিয়র ডেকরশন করিয়ে নিলে মন্দ কী? তাছাড়া অফিসগুলোতেও এখন এর চাহিদা প্রচুর। শপিং মলের দোকানগুলোও এর থেকে পিছিয়ে নেই। উপযুক্ত প্রস্তাব দিলে ডাক পাবেন কাজের।

এ বিষয়ে কোর্স করা থাকলে কাজ পেতে সহজ হবে, তবে না থাকলেও দক্ষতা ও উদ্ভাবনীর জোরে ক্রেতাকে খুশি করতে পারলে কাজের অভাব হবে না। ব্যবসা শুরুর আগে প্রয়োজনীয় হোম ওয়ার্ক সেরে নিন। যোগাযোগ রাখুন দক্ষ মিস্ত্রীদের সঙ্গে, যাতে কাজ পেলে সময় নষ্ট না করে সহজেই রুচিসম্মত কাজ করতে পারেন।

মোবাইল রিপেয়ারিং বিজনেস

স্মার্টফোন এখন মানুষের নিত্যদিনের সঙ্গি। খুব কম মানুষ খুজে পাবেন যাদের হাতে একটি স্মার্টফোন নেই। কিন্তু যেহেতু আমাদের একটা বড় অংশ এখনো টেকনোলজি ব্যবহারে সচেতন নয় তাই এগুলো নষ্টও হচ্ছে অহরহ। তাই, আপনি যদি মোবাইল রিপেয়ারিং এর কাজটি শিখে একটি ছোট্ট দোকান দিয়ে বসতে পারেন তাহলে আপনি অনেকটাই কমিয়ে নিতে পারবেন। কারণ, মানুষ মোবাইল কিনবের আর মোবাইল যেহেতু একটা electronic জিনিষ তাই ও খারাপ হবেই এবং মানুষ আপনার কাছে আসবেই। এরজন্য বেশি পুঁজিরতো দরকার হবেই না সময়েও লাগবে মাত্র ৩/৪ মাস৷ সাথে ইউটিউব দেখেও আপনি নিজেকে এগিয়ে রাখতে পারবেন৷

সএখন রইলো দোকান। নিজের রিপেয়ারিং ব্যাবসা জন্য আপনার একটি দোকানের প্রয়োজন হবে। তবে মোবাইল রিপেয়ারিং ব্যবসার জন্য আপনার বেশি বড় দোকানের প্রয়োজন হবেনা। কেবল নিজের কাজ টুকু করার মতো একটি ছোট্ট দোকান নিলেই হবে। তাছাড়া আজকাল একটি দোকান দুই তিনজনেও ভাগ করে বিভিন্ন কাজের জন্য ভাড়া নেয়া যাচ্ছে। তাহলে কাউকে নিয়ে আজই নেমে পড়ুন।

ডেলিভারি ম্যান সাপ্লাই এজেন্সি

এই কাজটা খুব সহজেই করতে পারবেন৷ এমনকি কোনো টাকাই ছাড়াও সম্ভব। তবে দরকার একটি টিম ও পরিশ্রম৷ আজকাল অনলাইন শপিং অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে। আর অনলাইন কেনাকাটা মানেই ডেলিভারি ম্যান দরকার। কিন্তু ডেলিভারি ম্যানগুলো সব প্রতিষ্ঠান, রেস্টুরেন্ট বা দোকানিরা সাপ্লাই দিতে হিমসিম খেতে হয়৷ কারণ সবার বিজনেস কিন্তু সেম না।

তাই আপনি যদি একটি টিম করে নিজের এলাকার আশেপাশের অনলাইন বিক্রেতাদের সাথে চুক্তি করে তাদেরকে ডেলিভারি ম্যান দিতে পারেন তাহলেই আপনার কাজ শেষ। ডেলিভারি প্রতি চার্জ পাবেন ডেলিভারি ম্যানদের কাছ থেকে সাথে অই সকল প্রতিষ্ঠান থেকেও কিছু অর্থ পাবেন।

মোবাইল রিচার্জের দোকান

আপাতত বেকার আছেন, মূলধন কম তাহলে একটি ছোট্ট মোবাইল রিচার্জ দোকান শুরু করতে পারেন। আজকাল, মানুষের হাথে হাথে মোবাইল আছে। মোবাইল থাকা মানেই কথা বলা ইন্টারনেট চালাতে টাকা রিচার্জ করতে হয়। তারা দোকানে গিয়ে রিচার্জ অবশ্যই করবে। তাই, আপনি এই business টি অনেক কম পুঁজিতে এবং অনেক ছোট দোকান নিয়ে আরম্ভ করতে পারবেন। আপনার মোবাইল রিচার্জের দোকান দিতে কেবল ১০ থেকে ১৫ হাজার খরচ হতে পারে। আপনি সব network কোম্পানির রিচার্জ কার্ড রাখার সাথে সাথে prepaid এবং postpaid sim বের করানোর কাজ করতে পারেন। এতে আপনার extra ইনকাম হবে।

তাছাড়া, রিচার্জের পাশাপাশি postpaid বিল জমা করা, মোবাইলের cover, head phone এবং মোবাইলের কিছু মাল পত্র (accessories) নিজের দোকানে রাখতে পারেন। অল্প টাকায় কি ব্যবসা করা যায় ভাবতে ভাবতে দেখেন এটাও একটা ভাল ব্যবসার নাম।

স্টেশনারি দোকান

বই-পুস্তক, খাতা-কলমের চাহিদা দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। দেশের উন্নতির সাথে সাথে বাড়ছে অফিস আদালত, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং এর সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোও। এসব প্রতিষ্ঠানে রেজিস্টার খাতা, পেন্সিল, কলম, ফাইল ইত্যাদির প্রয়োজন হয়। স্টেশনারিতে এই সব প্রয়োজনীয় খাতা, কলম, পেন্সিল, স্কেল ইত্যাদি পাওয়া যায়। এসব উপকরণের চাহিদা সব সময়ই থাকে।

পাশাপাশি আপনি যদি কোন আফিসে ডেলিভারি দিতে পারেন তাহলে ত কথাই নেই। ধীরে ধীরে নেটওয়ার্ক বাড়বে আর আপনার আয়ও বাড়তে থাকবে।

জুসের দোকান

খাবার দোকানের ব্যবসার মত  juice stall বা শরবতের দোকানের  ব্যবসাও লাভজনক এবং অল্প টাকাতে শুরু  করা যেতে পারে। আপনি একটি ভালো জায়গা বেছে নিন। যেমন, স্কুল বা কলেজের সামনে, হাসপাতালের সামনে বা কোনো বড়ো সরকারি কার্যালয়ের সামনে। এরকম জায়াগায় লোকেদের ভিড় অনেক বেশি পরিমানে থাকে। তাই, শরবত খাওয়ার জন্য অনেক গ্রাহক আপনার দোকানে আসার সুযোগ অনেক বেশি।

এই ধরণের শরবতের দোকান দেয়ার জন্য, কেবল একটি ছোট জায়গা বা দোকান নিলেই হবে। তারপর, কিছু ফল (fruits) কিনে আনতে হবে। তাছাড়া, এই ব্যবসাতে আপনার অন্য কোনো জিনিসে টাকা খরচ করতে হবেনা। শরবত তৈরি করার juice maker machine লাগবে, যেটা ২ থেকে ৩ হাজারেই পাবে।

শুধু পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতার দিকে একটু নজর দিলেই মানুষ আপনার তৈরি শরবতের জন্য পাগল হয়ে যাবে।

ব্যানার ও সাইনবোর্ডের দোকান

ব্যানার মূলত স্বল্প সময়ের অধিবেশন ও স্বল্পকালীন তথ্য প্রদানের জন্য ব্যবহৃত হয়। তাই ব্যানার সাধারণত কাপড়ের উপর বিভিন্ন রং দিয়ে লেখা হয়। সাইনবোর্ড সাধারণত দোকান, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান যেমন- স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়, অফিস, আদালত, দোকান প্রভৃতির সামনে ব্যবহার করা হয়। এছাড়া রাস্তার পাশে বিভিন্ন নির্দেশ ও নানান দীর্ঘমেয়াদি বিজ্ঞাপন প্রচারের জন্য সাইনবোর্ড ব্যবহার করা হয়। সাইনবোর্ড সাধারণত বেশি সময়ের জন্য ব্যবহৃত হয়। এ কারণে সাইনবোর্ডে লেখার জন্য অ্যালুমিনিয়াম, টিন, স্টিল বা কাঠ ব্যবহার করা হয়ে থাকে।

সারা বছর এইসব জিনিষের চাহিদা থাকে।

কাপড়ের ব্যবসা

একদম বাস্তব উদাহরণ দিয়ে অল্প কথাতে এই আইডিয়াটা শেয়ার করছি আপনাদের সাথে। গতপরশু আমি আমার বান্ধবীর সাথে নিউ মার্কেট যাই৷ সেখান থেকে সে ৩ হাজার টাকার মত জামার কাপড় ও ওড়না ক্রয় করে৷ বাসায় গিয়ে সে এই কাপড়গুলোতে বুটিক্স এর ছাপা বসাবে যাতে খরচ পড়বে আরো ৩/৪ হাজার টাকা৷ কিন্তু সে বিক্রয় করবে মোট ১৫/১৭ হাজার টাকায়। আশা করি আর বিস্তারিত বলার প্রয়োজন নেই৷

এখন কথা হলো বাসায় ছাপাতে না পারলে কি করবেন? এটাও আপনি নিউমার্কেট থেকে করিয়ে নিতে পারবেন। তবে এর জন্য অল্প কিছু খরচ বেশি হবে৷ তারপর এলাকার মানুষ, আত্মীয় স্বজন কিংবা ফেসবুক পেইজ খুলেই বিক্রি করতে পারবেন এগুলো৷

আজকাল অনেক মেয়েরাই এই ব্যবসা করে লাভবান হচ্ছেন।

কাগজ বা কাপড়ের ব্যাগ তৈরি

কাগজ বা কাপড় দিয়ে বানানো অনেক রকমের ব্যাগ বা ঠোঙা বিভিন্ন দোকানে প্রয়োজন হয়। তাই, নিজের ঘরে পেপারের ব্যাগ তৈরি কোরে, সেগুলি বিভিন্ন দোকানে সাপ্লাই (supply) দিয়ে ভালো রকমের ব্যবসা করতে পারবেন। এতে খরচ বা শ্রম তেমন না লাগলেও পরিচিত দোকানদার থাকলে উপকার বেশি পাওয়া যাবে। তাছাড়া চিঠির খাম তৈরি করেও সেগুলির ব্যবসা করতে পারবেন।

কাঁচাবাজার হোম ডেলিভারি সিস্টেম

শহুরে জীবনে আজ সবাই ব্যস্ত। একই বাসার সবাইকে কিছু না কিছু করতে হয়। তাই সময় হয় না টুকটাক প্রয়োজনীয় কাজের৷ কাঁচাবাজার যেহেতু প্রতিদিনই কিনতে হয় তাই সব সময় সম্ভব হয় নিজে থেকে কেনাকাটা করা৷ তাই এই সুযোগটাই কাজে লাগাতে পারবেন আপনি। কয়েকটি এলাকা টার্গেটে নিয়ে একটি মোবাইল এপ খুলে সহজেই করতে পারেন এই কাজটি।

ফটোগ্রাফি ব্যবসা

স্মৃতি সংরক্ষণের সবচেয়ে বড় উপায় এখন ফটোগ্রাফি। ছবি তুলতে এখন সবাই পছন্দ করে। বিয়ে, পার্টিসহ নানান অনুষ্ঠানের স্মৃতি ধরে রাখতে ফটোগ্রাফি গুরুত্বপূর্ণ। তাই আপনি চাইলে এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে ব্যবসা করতে পারেন। এরজন্য আপনার একটি ভালো ক্যামেরা দরকার হবে। তাছাড় অনলাইনে ২/১ টি কোর্স করে নিলে আপনার দক্ষতাও বৃদ্ধি পাবে।

পরিশেষে একটাই কথা ব্যবসা যেমনই হোক আর তার মূলধন যতই হোক, আপনাকে পরিশ্রম করতে হবে এবং লেগে থাকতে হবে। মনে রাখবেন সফলতা কখনও পরিশ্রম বিনা আসবে না। আজকাল শুধুমাত্র অলস যারা তারাই বসে আছে আর হা হুতাস করছে, যার মাঝে সামান্য হলেও উদ্যম আছে সে কিছু না কিছু করে ঠিকই জীবন চালিয়ে নিচ্ছে।

তাই আসুন বেকার বসে না থেকে কাজে নেমে পরি। জেফ বেজোস কিংবা বিল গেটস না হতে পারি নিজের জীবনের নিরাপত্তা তো নিশ্চিত করতে পাড়ি।